ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বন্যা শত শত মানুষ পানিতে বন্দি

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বন্যা শত শত মানুষ পানিতে বন্দি

মোঃ দুলাল মিয়া দর্পণ টিভি ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বৃষ্টি কম থাকলেও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বাড়ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। এতে উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।৯ বন্যার্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

উপজেলার কয়েকটি গ্রামে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে বেশ কিছু ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করেছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নানা ভোগান্তিতে রয়েছে এসব পরিবার। উপজেলার গয়াসি, সাইলকান্দি, সুরিকান্দি, ভেলকুনা, মানিকোনা (একাংশ), বাগমারা, ছত্রিশ (একাংশ), পাঠানচক, ইলাশপুর (একাংশ), ধনারাম (একাংশ), বারহাল, ভরাউট, নাথকলোনীসহ বেশ কিছু এলাকার মানুষ ও গৃহপালিত গবাদিপশু পানিবন্দি রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু পরিবার রান্না নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন। রান্না করতে না পেরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বাগমারা গ্রামের রাজা মিয়া বলেন, ‘আমাদের গ্রামের প্রায় ৪৫টির মতো পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের সহযোগিতা পাইনি। প্রশাসনের কেউ আমাদের কোনো খোঁজ নেয়নি। শুধুমাত্র কয়েকটি পরিবারকে উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে প্যাকেটজাত খাদ্য দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার ভুক্তভোগী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। আমাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা। কারও ঘরে পানি, কারও বারান্দায় পানি। বন্যায় কাঁচা ও আধাপাকা ঘর যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে যেতে পারে, সেই ভয়ে রাতে ঘুম হয় না। আছে খাবারের চিন্তা। খেয়ে না খেয়ে অনেকে দিন পার করছেন।’

এ নিয়ে উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমরান আহমদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ পানিবন্দি। সরকার থেকে মাত্র দেড় টন চাল ও ১৬ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী পেয়েছেন, যা মোটেও যথেষ্ঠ নয়।

উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। প্রশাসন থেকে দেড় টন চাল ও কয়েক প্যাকেট খাবার পেয়েছেন।৯

৩ নম্বর ঘিলাছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লেইছ চৌধুরী জানান, ‘তার এলাকায় বন্যার পানি কারও বাড়িতে উঠেনি। তবে পানি বাড়লে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি তার এলাকায় বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করেছেন।

বন্যার বিষয়ে কথা বলার জন্য বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি ফেঞ্চুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী বদরোদ্দোজাকে।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রাখী আহমদ জানান, বন্যায় আক্রান্ত মানুষের জন্য ১০ টন চাল ও শুকনো খাদ্য এবং গবাদি পশুর খাদ্য এসেছিল। তা বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে শুধু ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে। অন্যান্য পয়েন্টে পানি কমলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম বারী।

সংবাদ শেয়ার করুন

ইব্রাহিম সুজন, নীলফামারী প্রতিনিধ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমিজমা সংক্রন্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সাজানো মিথ্যা মামলায় ফেলে এক নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে-নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা কয়াগোলাহাট ঘোনপাড়া এলাকায়৷ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ৭৯ বছর পূর্বে বসতি স্থাপন করে স্থানীয়রা রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করে আসছি৷ সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তীতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ এসে রাস্তা খুলে দিলেও পুলিশ চলে যাবার পরে রাস্তাটি পুনরায় বন্ধ করে দেয় প্রতিপক্ষ৷ পরবর্তী স্থানীয়দের সহোযোগিতায় বাড়ির বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলেও গত ২৬র্মাচ এ বিকল্প চলাচলের রাস্তাটিও বন্ধ করে দেয়া হয় । এতে বাধা দিলে সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাই আজিজুল হক ও শফিকুল ইসলামের পরিবার এ-র উপর আতর্কিত হামলা করে বাড়ী ঘরের বেড়া, চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে ধারালো অস্ত্রসহ(হাচুয়া,বটি,দা) লোহার মোটা পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে প্রতিপক্ষ সিরাজুলরা। আহতদের অবস্থা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেয়া হয় (ওসিসি বিভাগের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিরাজুল ও শফিকুলদের আসামী করে সৈয়দপুর থানায় মামলা করে ভুক্তভোগী পরিবারটি৷ এদিকে, মামলাটি থানায় দেয়ার পর থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারটির উপর বিভিন্ন ধরনের হুমকী ধামকি বিদ্যমান রেখেছে প্রতিপক্ষ৷ ভুক্তভোগী পরিবারের আতিয়ার রহমান খোশো বলেন, আমি রংপুর বিভাগের রংপুর বীর উত্তম শহীদ সামাদ স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিষয়ক সহকারী শিক্ষক । ঘটনার দিন আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম, এই মর্মে প্রতিষ্ঠান প্রিন্সিপাল মহোদয় প্রত্যায়ন পত্র প্রদান করেন। শফিকুলেরা অপরাধ সংঘটিত করে আগেই মামলা দায়ের করেন৷ আমি উপস্থিতি না থাকলেও আমাকে আসামির শ্রেনীভুক্ত করা হয়েছে৷ এমনকি, সৈয়দপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আমার কল রেকর্ড আছে এবং ঐ কল রেকর্ড ট্রাকিং করে দেখা গেছে আমি ঐদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৬ শেষ মার্চের জাতীয় অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে যুক্ত ছিলাম, শুধু মাত্র আমাকে হয়রানি করার জন্য এবং আমার সন্মান হানি করার জন্য হয়রানি মূলক মিথ্যা সাজানো মামলা করা হয়েছে৷ এ অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আতিয়ার রহমান খোশো তাদের সম্পর্কে আত্মীয় আমাদের সাথে জগড়া লাগলে তিনি তাদের পরামর্শ ও শেল্টার দেন। তাই ওনাকে আসামি করা হয়েছে। আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে। তারাও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাই আমরাও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি৷ তবে, মামলার সূষ্ঠ তদন্ত দাবি করেন সহকারী শিক্ষক আতিয়ার রহমানসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীর।

নীলফামারীতে মিথ্যা মামলায় ফেলে নিরীহ পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

themesbazartvsite-01713478536