‘ আদাব ‘ তরুণ নির্মাতা র এক চেষ্টা।।Darpon TV

‘ আদাব ‘ তরুণ নির্মাতা র এক চেষ্টা।।Darpon TV

মহসিন মুন্সী: বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর। ১৭ জুলাই, ২০২০: দীর্ঘ প্রায় চার বছরের গবেষণার পর সমরেশ বসু র গল্প অবলম্বনে তরুণ নির্মাতা তন্ময় সরকার অঞ্চল তৈরি করেছেন সিনেমা ‘ আদাব ‘।

১৯৪৬-৪৭ সালে দেশ ভাগ ও হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে এ চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট। নির্মাতা এ ছবির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক সমাজ নির্মাণের পথে সমাজ কে এগিয়ে নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্মাতা তন্ময় সরকার অঞ্চল মনে করেন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এই উপমহাদেশের জন্য একটি অভিশাপ।যা দেশভাগের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত অামাদের ব্যথিত করছে। ২০২০ এ দাড়িয়ে এখন ও অামরা সাম্প্রদায়ীকতার বিষ ছড়াতে দেখি। তবু ও মানুষ এই ছোবল থেকে রক্ষা করে মানবিক সমাজ নির্মাণ করতে আশাবাদী। অামার এই গল্পটি নির্মানের উদ্দেশ্য দাঙ্গার মধ্যেও মানুষে মানুষে যে সম্প্রীতি তৈরি হয় তা দেখানো।
এক মুসলিম মাঝি ঈদের কেনাকাটার জন্য গঞ্জে যায় এর ভিতর দাঙ্গার ভিতরে পড়ে যায় শুরু হয় কার্ফিউ।তার সাথে দেখা হয় এক হিন্দু শ্রমিেকর। সকালে কাজ করে সেও ওই কার্ফিউর মধ্যে পড়ে, একটি ডাস্টবিনে ওরা দুইজন পালিয়ে থাকে, কথা প্রসঙ্গে তাদের সাথে বিভিন্ন ধরনের কথা হয়, হয় বন্ধুত্ব, হয় বিভিন্ন কথার আদান-প্রদান, এর ভিতর কুরবান এবং বীরেন চট্টোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে লুটপাট শুরু করে, শুরু করে হত্যা, তার সাথে থাকে পুলিশ, চলে মেথর এবং মহাজনের উপরের অত্যাচার,
শেষ পর্যন্ত হিন্দু মহাজন তাদের অত্যাচারে থাকতে পারেন না, তার জায়গা সম্পত্তি এবং তার সন্তানকে দিয়ে যান এক মুসলিম পরিবারের কাছে,
আমরা বলছি হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা তবে কেমন দাঙ্গা? যদি হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা হয় তাহলে এক হিন্দু তার সব সম্পত্তি এবং তার সন্তানকে এক মুসলিম পরিবারের হাতে কেন তুলে দিবেন?
আমাদের এই সিনেমায় আমরা প্রমাণ করতে চাই হিন্দু মুসলমান আমরা একসাথে বসবাস করতে চাই, কিন্তু আমরা একসাথে বসবাস করতে পারছিনা কিছু কুরবান এবং বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতন কিছু কুৎসিত মানসিকতার মানুষদের জন্য, আমাদের এই সিনেমায় আমরা আরো প্রমাণ করতে চেয়েছি যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করছেন যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন তারা কখনো ভালো মানুষ হতে পারে না।অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের যে লক্ষ্য নিয়ে অামরা এগুচ্ছি তা যেন বজায় থাকে। “অাদাব” সকল ধর্মের মানুষের সম্প্রীতি বজায় রেখে এই দেশে বসবাস করার কথাই বলে।

ছবির গল্প সমরেশ বসু, চিত্রনাট্য ও নির্দেশনা তন্ময় সরকার অঞ্চল, শিল্প নির্দেশনা মেহেদী হাসান মিঠু, ক্যামেরায় আর জে রাজ। অভিনয় শিল্পী রা – কাজী ফয়সাল ( মাঝি ), অন্তরা ( মাঝির বৌ ), আরাধ্য সরকার প্রাচী ( মাঝির মেয়ে ), কামরুজ্জামান তাপু ( শ্রমিক ), তন্ময় সরকার অঞ্চল ( মেথর ), চন্দনা ( মেথরের বৌ ), মেহেদী হাসান মিঠু ( পুলিশ ), পলাশ খাঁন ( কুরবান ), আনিসুর রহমান আনিস ( খগেন ), শরীফ খান ( ননী ), কাঁঠাল শেখ ( বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ), মিলন বাউল ( বাউল ) এ ছাড়াও আরো অনেকে। গীতিকার বলরাম সরকার দুটি গান লিখেছেন। গান দুটিতে সুর ও কন্ঠ দিয়েছেন বিশিষ্ট লালন গবেষক ড. পাগলা বাবলু খাঁন। এ ছাড়াও ছবিটিতে একটি নজরুল সংগীত ব্যবহৃত হয়েছে। সার্বিক সহযোগিতা করেছেন মোঃ শরীফ খান।

আগামী ঈদের পরেই ছবিটি প্রদর্শিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ স্বপ্নবাজ এ নির্মাতা সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536