সোনার বাংলার হাইব্রিড উচ্চ আসনে- মহসিন মুন্সি

সোনার বাংলার হাইব্রিড উচ্চ আসনে- মহসিন মুন্সি

মহসিন মুন্সি: হাইব্রিড ইদানিং একটি শব্দ বহুল প্রচলিত হয়েছে ‘হাইব্রিড’ । শ্রুতিমধুর শব্দটির ব্যবহার শুরুর সময়ে ভাল/উন্নত অর্থে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে আর ভাল অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে কি? বরং উল্টো অর্থেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

হাইব্রিড মুরগীর মাংস ২০০ টাকা কেজি হলে দেশী মুরগীর মাংস ৬০০ টাকা কেজি। হাইব্রিড পাঙ্গাশ ১৫০ টাকা কেজি হলে দেশী পাঙ্গাশ ১২০০ টাকা কেজি। বিশেষ করে রাজনীতির ক্ষেত্রে হাইব্রিড শব্দটি এখন অত্যন্ত প্রচলিত। কোন একটি রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় তখন দলের বাইরের বিভিন্ন অবস্থান থেকে দক্ষ ব্যক্তিদের দলে নিয়ে তা নিজেদের কাজের গতি বৃদ্ধি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। এটা শুধু আমাদের দেশে নয় পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই প্রচলিত রয়েছে।

সবাই দলের বাইরে থেকে মেধা আমদানি করে। কিন্তু আমাদের দেশে বিষয়টি একটু ভিন্ন। আমাদের দেশে যারা দলের বাইরে থেকে লোক রিক্রুট করে তারা মেধা শক্তি না পেশী শক্তি রিক্রুট করছেন এটা সম্ভবত দেখার কেউ নেই। নতুন সংযুক্ত পেশী শক্তি যারা পূর্বে ও পেশী শক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিল তারা নতুন জায়গায় এসে পূর্বের চরিত্র বদলাতে পারে না। তাদের সঙ্গী থাকে দুর্নীতিবাজ কিছু আমলা, প্রশাসন ও নেতারা। লোভী নেতারা এদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ উপঢৌকন নিয়ে এদের কাজের গতিকে রাখে অবারিত। এরা ছলে, কৌশলে এমন একটি অবস্থান তৈরি করে যে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এদের কথাকেই আমলে নেয়, দলের ত্যাগী কর্মি দের কথাকে নয়। অবস্থাটা এমন হয় যে দলের নিঃস্বার্থ, ত্যাগী কর্মি রা একসময় অভিমানে দূরে সরে যায়। সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কর্মিদের এই মনোভাব বুঝতে সক্ষম না হওয়ার কারণ স্থানীয় অসৎ নেতৃত্ব, যারা নিজেদের স্বার্থে সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে এ বিষয়গুলি বুঝতে দিতে চান না। এতে বড় ক্ষতি হয় শাসক দলের আর সর্বোচ্চ ক্ষতি হয় দেশের। আমরা দেখতে পাচ্ছি জি কে শামিম, পাপিয়া বা রুবেল আইনের আওতায় আসছে। এদের পেছনের ( এদের এই অবস্থান তৈরির কারিগর ) কারো কোন দৃষ্টিগ্রাহ্য প্রদর্শন আমরা দেখতে পাচ্ছি কি? এরা কি সহযোগী কোন শক্তি ছাড়া ই ঐ পর্যায়ে যেতে পেরেছে? এদের সাথে অবশ্যই অনেকেই জড়িত রয়েছে। তারা হতে পারে রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী, ব্যবসায়ী নেতা বা অন্য যে কেউ! আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসার স্থান, আমাদের নেতৃত্বে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, যিনি তার পিতা র আদর্শ বুকে ধারণ করে এদেশের নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।যার ধ্যান জ্ঞান এদেশের জনমানুষের উন্নয়ন, তিনি নিশ্চয়ই এদের খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই হাইব্রিড দের মাধ্যমে যে অর্থ দেশের বাইরে চলে গেছে, আমরা আশাবাদী তা আবার দেশে ফেরৎ আসবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এদের কারণে দেশের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে তা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ই পুনরুদ্ধার সম্ভব। আমরা তাকিয়ে আছি জননী প্রধানমন্ত্রী আপনার দিকে। আপনার পিতার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, এবার আপনার নেতৃত্বে আমরা ঘুরে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536