ফেলে যাওয়া বৃদ্ধাকে দাঁড়িয়ে দেখেছে সবাই উদ্ধারে এগিয়ে এসেছে পুলিশ

ফেলে যাওয়া বৃদ্ধাকে দাঁড়িয়ে দেখেছে সবাই উদ্ধারে এগিয়ে এসেছে পুলিশ

বি এম মনির হোসেন,স্টাফ রিপোর্টারঃ-

নিজের ভাগ্য যেন বার বার অসহায় আর নিপীড়িতদের পাশে টেনে নিয়ে যাচ্ছে তাকে। যেখানে তিনি নির্দেশ দিলে কাজটি সফলভাবে অন্য অফিসাররা বাস্তবায়ন করতে সম্ভব, সেখানে নির্দেশের অপেক্ষা না করে অমানবিক কোন ঘটনা শুনেই মানবতার টানে তিনি সরাসরি নিপীড়িত, নির্যাতিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গোটা পুলিশ বিভাগের ভাবমুর্তি উজ্জল করে চলেছেন।

তিনি আর কেউ নন বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন। করোনা সংক্রমনের কারনে প্রশাসনের অন্যন্য কর্মকর্তারা যখন নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন, ঠিক সেইসময় মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন শান্তি মিশনে পুরস্কৃত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি মোঃ আফজাল হোসেন।

তেমনই একটা ঘটনা ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যায়। আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের কালুড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ করাতির মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী মালা করাতির (৭৫) সংসারে নেমে আসে অভাবের ঘনঘটা। দুই পুত্র দিনমজুরের কাজ করে কোনমতে সংসার চালাচ্ছেন যেমন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থায়।

ছেলেরা বাড়িতে না থাকায় বুধবার বিকেলে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে সওদা কিনতে ৭৫ বছরের অতিশীপর বৃদ্ধা মালা করাতি উপজেলা সদরে নিত্য প্রয়োজনীয় সওদা কিনতে বাজারে আসেন। সওদা কিনে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় পরে গিয়ে সঙ্গাহীন হয়ে পরেন মালা করাতি। আশপাশে অনেক উৎসুক লোকজন দাঁড়িয়ে দাঁগিয়ে বিষয়টি দেখলেও করোনা সংক্রমনের সন্দেহে মালা করাতিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি কেউ

লোকমুখে খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন অসহায়ের বন্ধু আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন। তিনি ওই অসহায় বৃদ্ধা মালা করাতিকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালে তিনি (ওসি) বৃদ্ধার চিকিৎসা নিশ্চিত করে ওষুধ ক্রয় করে দিয়েছেন। পরবর্তীতে ওই বৃদ্ধার স্বজনদের কাছে খবর পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যর মাধ্যমে হতদরিদ্র অসহায় মালা করাতির বাড়িতে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফজাল হোসেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ওসি আফজাল হোসেন গত ২২ জুন করোনা সন্দেহে বাইপাস সড়কে ফেলে যাওয়া এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করে সুস্থ করেছেন।

এরআগে করোনা সন্দেহে বসত ঘরের বাহিরে রাখা মোল্লাপাড়া গ্রামের এক বৃদ্ধাকে গত ১৭ জুন উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এছাড়া ওসি আফজাল হোসেন করোনার ক্লান্তি লগ্নে নিজের বেতনের টাকায় রাতের আধাঁরে আগৈলঝাড়ার প্রকৃত কর্মহীন ও প্রতিবন্ধীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, যে কাজগুলো আমাদের করার কথা, কিন্তু আমার বিষয়গুলো জানার আগেই ওসি আফজাল হোসেন সেই মানবতার কাজগুলো একাধারে করে যাচ্ছেন। এ জন্যই তিনি (ওসি) সর্বমহলে গরীবের বন্ধু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, করোনার মধ্যে নিজের সুরক্ষার কথা চিন্তা না করে মানবতারটানে ওসি আফজাল হোসেন নিজেই সরাসরি নিপীড়িত, নির্যাতিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গোটা পুলিশ বিভাগের ভাবমুর্তি উজ্জল করে চলেছেন।

সংবাদ শেয়ার করুন

themesbazartvsite-01713478536